Advertisement

Responsive Advertisement

শিক্ষকের উপর বর্বরোচিত আক্রমণের নিন্দা জানালো এবিভিপি



আগরতলা, ২৬ আগস্ট: স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষকের উপর আক্রমণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালো অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের ত্রিপুরা প্রদেশ কমিটি। এই বিষয়ে এবিভিপি ত্রিপুরা প্রদেশের তরফে এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে নিন্দা ব্যক্ত করা হয় এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত প্রান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সংগঠনের তরফে সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপারের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। 
গত ২৫ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে এবিভিপি বিশালগড় নগর শাখার অধ্যক্ষ ও বিশিষ্ট শিক্ষক রাজেশ সুর চৌধুরীর উপর কিছু দুষ্কৃতিকারীদের গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে নৃশংস হামলা চালায়। বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফেরার পথে এই হামলায় তিনি গুরুতর ভাবে আহত হন। এঘটনা কেবল একজন শিক্ষকের উপর আক্রমণ নয়, বরং গোটা সমাজের বিবেক ও শিক্ষার মূল ভিত্তির উপর আঘাত বলে এবিভিপি তরফে দাবি করা হয়।
বাংলা সমাজে যুগ যুগ ধরে শিক্ষককে গুরুজ্ঞানী, পথপ্রদর্শক ও জাতির নির্মাতা হিসেবে শ্রদ্ধা করা হয়েছে। "গুরু বিনা জ্ঞান নয়" এই দর্শন আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। শিক্ষক শুধু পাঠদান করেন না, তিনি ছাত্রসমাজকে নৈতিকতা, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের শিক্ষা দেন। একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হতে হয়েছে, যা সভ্য সমাজে অকল্পনীয় এবং অগ্রহণযোগ্য। এই নৃশংস ঘটনার খবর চারদিকে ছড়িয়ে পড়তেই ছাত্র-যুব সমাজ ও স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। এই ঘটনাটা এবিভিপি' র রাজ্য সম্পাদক গৌরব দাস বলেছেন- "একজন শিক্ষক মানে একজন জাতিনির্মাতা। শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করা মানে জাতির আত্মাকে রক্ষা করা। রাজেশ সুর চৌধুরীর উপর আক্রমণ কেবল ব্যক্তিগত হামলা নয়, এটি শিক্ষা, ছাত্রসমাজ ও সমাজের শান্তির উপর সরাসরি আঘাত। আমরা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং স্পষ্ট করছি- কোনো সভ্য সমাজে শিক্ষকের অসম্মান ও আক্রমণ বরদাস্ত করা যায় না।" অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ প্রশাসনের কাছে জোরালো দাবি জানায় অবিলম্বে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে কেউ শিক্ষকের প্রতি এই ধরনের হিংসাত্মক আচরণ করার সাহস না পায়। শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
এবিভিপির তরফে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় - যদি প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়, তবে সংগঠন বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবে। আরো বলা হয় - জাতির মেরুদণ্ড শিক্ষা, আর শিক্ষার মেরুদণ্ড শিক্ষক। শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা কেবল নৈতিক দায়িত্ব নয়, জাতীয় কর্তব্য। শিক্ষক যদি নিরাপদ না হন, তবে সমাজ কখনোই সুস্থ, প্রগতিশীল ও শিক্ষিত হতে পারবে না। তাই আমরা দাবি করছি- অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে শিক্ষকদের সম্মান ও নিরাপত্তা রক্ষা করার দাবি জানানো হয়। এবিভিপির পক্ষ থেকে কৌশিক দেবনাথ সংবাদ মাধ্যমের কাছে প্রেস রিলিজের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করেছেন। 


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ