Advertisement

Responsive Advertisement

জাতি-জনজাতিদের সংস্কৃতির বিকাশে সরকার প্রচেষ্টা নিয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী


জাতি-জনজাতিদের সংস্কৃতির বিকাশে সরকার প্রচেষ্টা নিয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী
আগরতলা, ১১ডিসেম্বর : ত্রিপুরা মিশ্র সংস্কৃতির রাজ্য। রাজ্যের জাতি-জনজাতিদের সংস্কৃতির বিকাশে সরকার প্রচেষ্টা নিয়েছে। গতকাল রাতে রাজনগর ব্লকের ডিমাতলি পঞ্চায়েতের চন্দ্রপুরে পর্যটন ও মিলন মেলার উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী, রাজনগর ব্লকভিত্তিক বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা ও প্রতি ঘরে সুশাসন ২০ অভিযানে বিকাশ মেলারও উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার ও রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এক ভারত শ্রেষ্ঠ ভারত ও এক ত্রিপুরা শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে অনেক আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। পর্যটন শিল্পের বিকাশে এই পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিকে পর্যটন নিগমের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর নিযুক্ত করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যবাসীকে বহির্রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ভ্রমণে যাওয়ার আগে রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলি দেখার আহ্বান জানান। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা ও প্রতি ঘরে সুশাসন ২০ অভিযানে বিভিন্ন প্রকল্প ও পরিষেবার সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এই দুই কর্মসূচিতে রাজ্যের ব্লকগুলিতে বিকাশ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। বিকাশ মেলায় জনগণকে তাৎক্ষণিক বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এতে জনগণ উপকৃত হচ্ছেন। সরকার রাজ্যের সার্বিক বিকাশ ও জনকল্যাণে কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার উন্নয়ন কর্মসূচি রূপায়ণে ও পরিষেবা প্রদানে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ করছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মতে যুবক, কৃষক, মহিলা এবং গরীব অংশের মানুষের উন্নয়ন হলে দেশের বিকাশ ত্বরান্বিত হবে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিকশিত ভারত সংকল্পযাত্রা ও প্রতি ঘরে সুশাসন ২.০ অভিযানের উপর প্রবন্ধ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী চারজন ছাত্রছাত্রীকে পুরস্কৃত করেন। তাছাড়া উজ্জ্বলা যোজনায় দুইজন মহিলা সুবিধাভোগীদের হাতে এলপিজি গ্যাসের সংযোগপত্র তুলে দেন। পর্যটন ও মিলন মেলা উপলক্ষে মেলা প্রাঙ্গণে ২৭টি প্রদর্শনী মন্ডপ খোলা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী এই প্রদর্শনী মন্ডপগুলি পরিদর্শন করেন।

অনুষ্ঠানে সমবায়মন্ত্রী শুরুাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, সমাজের অস্তিম ব্যক্তি পর্যন্ত যাতে সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুযোগ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া যায় সেই লক্ষ্যেই বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা ও প্রতি ঘরে সুশাসন ২০ অভিযানে ব্লকগুলিতে বিকাশ মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। বিকাশ মেলা থেকে সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবার সুবিধা গ্রহণ করার জন্য তিনি জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জিলা পরিষদের সভাধিপতি কাকলি দাস দত্ত, সহকারি সভাধিপতি বিভীষণ চন্দ্র দাস, বিধায়ক মাইলায়ু মগ, বিধায়ক স্বপ্না মজুমদার, রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান তপন দেবনাথ, জেলাশাসক সাজু বাহিদ এ, পুলিশ সুপার অশোক কুমার সিনহা প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্লকের বিডিও সৈকত সাহা। তিনদিনব্যাপী পর্যটন ও মিলন মেলা চলবে আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত। মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন রাজ্য ও বহির্রাজ্যে শিল্পীদের দ্বারা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ