Advertisement

Responsive Advertisement

আধুনিক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা অর্জন করতে হবে: মুখ্যমন্ত্রী




আগরতলা, ১ জানুয়ারি: পুথিগত বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষা অর্জনের জন্য আধুনিক প্রযুক্তিকেও কাজে লাগাতে হবে। উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে পাশাপাশি নৈতিকতার পথও বেছে নিতে হবে। শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে সমাজে নিজেকে একজন বিশেষ ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। তার থেকেও বড় কাজ নিজেকে সমাজের কাছে একটা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। 

                             আজ আগরতলার নজরুল কলাক্ষেত্রে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ পালন উৎসবের উদ্বোধন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। 
                            অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, মনকে শান্ত রাখার জন্য আধ্যাত্মিকতার দিকে কিছু সময় ব্যয় করলে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে। আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা যেন সময়োপযোগী হয় তার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শে নতুন শিক্ষানীতি চালু করা হয়েছে। শিক্ষিত যুব সমাজ সারা বিশ্বেরই অন্যতম সম্পদ। দেশের শিক্ষিত যুব সমাজের কল্যাণে এবং তাদের আরও বেশি শক্তিশালী করার জন্য নতুন শিক্ষানীতি চালু করা হয়েছে। শিক্ষার সঙ্গে প্রযুক্তির সংযোগ ঘটানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশকে শিক্ষার হাব হিসেবে তৈরী করার চেষ্টা করছেন। সময়োপযোগী শিক্ষাদানের জন্য রাজ্য সরকারও বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়ণ করছে।
                           মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৬ সালে ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদ স্থাপিত হয়। এবছর বোর্ডের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষ। বর্তমান মধ্যশিক্ষা পর্ষদকে চলার ক্ষেত্রে বোর্ডের পুরনো আধিকারিক ও কর্মীদের কাছ থেকে ভাল পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। ডাঃ সাহা বলেন, জাতীয় শিক্ষানীতি গ্রহণের পর থেকে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অধীনে পরীক্ষা দেওয়া ছাত্রছাত্রীরা ভাল ফলাফল করছে। তাদের ফলাফল আরও ভাল করার জন্য পর্ষদকে উদ্যোগ নিতে হবে।  
                           আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সঠিক পথে চালিত করতে নিপুন ত্রিপুরা, মিশন মুকুল, বিদ্যা সেতু মডিউল প্রভৃতি চালু করা হয়েছে। ছাত্রীদের বিনামূল্যে বাই সাইকেল দেওয়া হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সুপার ৩০ প্রকল্প চালু করা হয়েছে। শুধু ছাত্রছাত্রী নয় শিক্ষক শিক্ষিকাদেরও সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৭,৭০০ জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রতিটি বিদ্যালয়ে স্মার্ট ক্লাস চালু করা হয়েছে। জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার সুবিধার জন্য নতুন নতুন ছাত্রাবাস খোলা হয়েছে। পিএম জনমন সহ বিভিন্ন প্রকল্পে ৪৭টি নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য রয়েছে রাজ্যের ৫৮টি ব্লকে একটি করে একলব্য বিদ্যালয় স্থাপন করার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু বিদ্যালয় শিক্ষাই নয়, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ণ করছে। রাজ্যে নতুন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।

                       অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা দপ্তরের সচিব রাভেল হেমেন্দ্র কুমার, বিবেকনগর রামকৃষ্ণ মঠের মহারাজ স্বামী ভক্তিশুধানন্দ, ত্রিপুরা মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ড. ধনঞ্জয় গণচৌধুরী, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সচিব ড. জয়দ্বীপ ভট্টাচার্য সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ। এদিন অনুষ্ঠানে ২০২২ সাল থেকে ২০২৫ পর্যন্ত মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উল্লেখযোগ্য ফলাফলের জন্য ২৩ জন কৃতি ছাত্রীকে পুরস্কৃত করা হয়। তাদের হাতে শংসাপত্র এবং পুরস্কারের অর্থমূল্য ১০ হাজার টাকার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে স্মরণিকার আবরণ উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ