সুদীপ নাথ
আন্তর্জাতিক রাজনীতির জটিল সমীকরণ, আঞ্চলিক সংঘাত এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়েও কিছু দেশ আছে, যারা শক্তির প্রদর্শনের চেয়ে মানবিকতা ও শান্তিকেই অগ্রাধিকার দেয়। ভারত তেমনই একটি দেশ, যে তার কূটনীতি, প্রতিবেশী নীতি এবং মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর সামনে শান্তির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বরাবরই সৌভ্রাতৃত্বের এক অনন্য উদাহরণ। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র গঠনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে ভারতের অবদান ইতিহাসে স্বীকৃত। শুধু রাজনৈতিক বা কৌশলগত কারণেই নয়, মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই ভারত সব সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা কোভিড-১৯ মহামারীর মতো বৈশ্বিক সংকটে ভারত বারবার প্রমাণ করেছে—প্রতিবেশীর দুঃসময়ে পাশে থাকা শুধু কূটনীতি নয়, এটি এক নৈতিক দায়িত্ব।
এই সৌভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক কেবল সরকারিভাবেই সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে আন্তরিকতা, সংস্কৃতি ও ভাষার বন্ধন। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অপশক্তি এই দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে ফাটল ধরানোর চেষ্টা চালাচ্ছে, তবুও উভয় দেশের সচেতন রাজনৈতিক নেতৃত্ব, কূটনীতিক এবং বুদ্ধিজীবী মহল সংযম ও দূরদর্শিতার মাধ্যমে সেই অপচেষ্টা প্রতিহত করে চলেছেন।
এই প্রেক্ষাপটে ভারতের কূটনৈতিক আচরণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কোনো সংকট বা সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে ভারত প্রায়শই প্রতীকী বার্তার মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে সরাসরি মানবিক উপস্থিতি জানান দেয়। বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর প্রেক্ষিতে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের ঢাকা সফর এবং সমবেদনা প্রকাশ সেই মানবিক কূটনীতিরই প্রতিফলন। এটি স্পষ্ট করে দেয়—ভারত সম্পর্ককে দেখে আবেগ, শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক মর্যাদার চোখ দিয়ে।
পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও ভারত কখনো আগ্রাসী ভাষা বা ক্ষমতার প্রদর্শনকে তার মূল পরিচয় হিসেবে তুলে ধরেনি। বরং “বসুধৈব কুটুম্বকম”—সমগ্র বিশ্ব এক পরিবার—এই দর্শনকে ধারণ করেই ভারত বিশ্ব রাজনীতিতে তার অবস্থান নির্ধারণ করেছে।
বর্তমান বিভক্ত বিশ্বে যেখানে যুদ্ধ, বিদ্বেষ ও অবিশ্বাস বাড়ছে, সেখানে ভারতের মতো একটি দেশের শান্তিকামী অবস্থান বিশ্ববাসীর জন্য আশার আলো। ভারত দেখিয়ে দিচ্ছে—শক্তি মানেই ধ্বংস নয়, শক্তি মানে দায়িত্ব; আর প্রকৃত নেতৃত্ব মানে হলো মানবিকতা ও শান্তির পথে অন্যদের এগিয়ে নেওয়া।
0 মন্তব্যসমূহ