Advertisement

Responsive Advertisement

চকলেট তৈরী করে প্রথমবারেই বাজিমাত রূপাইছড়ির অন্নপূর্ণা ভিও–এর মহিলাদের





সুদীপ নাথআগরতলা, ১ ডিসেম্বর: স্বনির্ভরতার পথে আরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার রূপাইছড়ি আর ডি ব্লকের বৈষ্ণবপুর ভিলেজ কমিটি এলাকার অন্নপূর্ণা ভিও–এর মহিলারা। নিজেদের হাতে তৈরি চকলেট নিয়ে ২০২৫ সালের আঞ্চলিক সরস মেলায় অংশ নিয়ে প্রথমবারেই চমকপ্রদ সাফল্য অর্জন করেছেন তারা। "খাচুক " নামের এই চকলেট মেলায় প্রায় তিন লক্ষ আশি হাজার টাকার চকলেট বিক্রি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন এই মহিলা উদ্যোক্তারা। সরস মেলার মঞ্চে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু'র হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
অন্নপূর্ণা ভিও–এর পক্ষ থেকে সবিতা ত্রিপুরা জানান, চকলেট তৈরি ও বিপণনের সমস্ত খরচ বাদ দিয়ে তাদের নিট লাভ হয়েছে প্রায় এক লক্ষ নব্বই হাজার টাকা। প্রথমবার কোনও বড় মেলায় অংশ নিয়ে এত বড় সাফল্য তাদের কাছে সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশনের (টিআরএলএম) সহায়তায় তারা ধাপে ধাপে চকলেট তৈরির প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রথম পর্যায়ে রূপাইছড়ি মহিলা ক্লাস্টার সমবায় সমিতির মাধ্যমে গ্রামীণ জীবিকা মিশনের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরবর্তী পর্যায়ে আগ্রহী সাতজন মহিলা আরও উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে চকলেট তৈরির কাজ শুরু করেন।
বর্তমানে তারা মূলত ডার্ক ও মিল্কি—এই দুই স্বাদের চকলেট তৈরি করছেন। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার কথা মাথায় রেখে তারা ১০ টাকা ও ২০ টাকা মূল্যের চকলেট বাজারে এনেছেন, যা সরস মেলায় ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।
সবিতা ত্রিপুরা জানান, সরস মেলায় প্রথমবার চকলেট নিয়ে এলেও তাদের স্টলে প্রতিদিন ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। স্বাদ ও মানের কারণে সাধারণ মানুষ তো বটেই, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও পাইকারও তাদের কাছ থেকে নিয়মিত চকলেট কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যেই কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তারা নিয়মিতভাবে বাজারে চকলেট সরবরাহ শুরু করবেন বলে আশাবাদী।
এই সাফল্যের পেছনে ত্রিপুরা গ্রামীণ জীবিকা মিশনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সবিতা ত্রিপুরা বলেন, “গ্রামীণ জীবিকা মিশনের সহায়তা ও প্রশিক্ষণ না পেলে আজ এই সাফল্য সম্ভব হতো না। আমরা আন্তরিকভাবে মিশনের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
গ্রামীণ মহিলাদের আত্মনির্ভর করে তোলার ক্ষেত্রে অন্নপূর্ণা ভিও–এর এই সাফল্য নিঃসন্দেহে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। চকলেট তৈরির মতো নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে তারা শুধু নিজেদের আর্থিক স্বাবলম্বী করছেন না, পাশাপাশি এলাকার অন্যান্য মহিলাদেরও স্বপ্ন দেখাচ্ছেন স্বনির্ভর জীবনের।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ