আগরতলা, ৩ জানুয়ারি: ত্রিপুরা রাজ্য বিদ্যুৎ নিগম লিমিটেড নদী থেকে হাইড্রোকাইনেটিক টার্বাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য রাজ্যের ১০টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ২৪x৭ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
আজ বনমালীপুরে বিদ্যুৎ সাশ্রয়কারী সুপার ইসিবিসি ভবনের ভূমিপূজায় অংশগ্রহণ করে এই তথ্য জানিয়েছেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।
মন্ত্রী বলেন প্রযুক্তি গ্রহণ না করলে মানুষ ও রাজ্য সব ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাবে। আমাদের সরকার নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের চেষ্টা করছে। সুপার ইসিবিসি ভবনের জন্য ১২.৩৩ কোটি টাকা খরচ হবে, এবং দেশের অন্যান্য জায়গায় আরও পাঁচটি ভবন নির্মাণাধীন। তবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে একমাত্র ত্রিপুরাতেই এই সুপার ইসিবিসি বিল্ডিং নির্মিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিদ্যুৎ দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করা।
তিনি আরও জানান, ত্রিপুরায় বর্তমানে পিক আওয়ারে প্রায় ৩৭৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। ২০৩১ সালের মধ্যে এই চাহিদা প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে। বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রায় ২৩ ঘণ্টা ৫৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ হচ্ছে, যদিও মাঝে মাঝে ট্রিপিং হয়। বিদ্যুৎ গ্রাহকের সংখ্যা বর্তমানে ১০.৫৭ লাখ, যা ২০১৮ সালের আগে ৭.২১ লাখ ছিল। এটি রাজ্যের দ্রুত উন্নয়নের প্রমাণ।
মন্ত্রী বলেন রাজ্যে যদি ৫ লাখ পরিবার ২ কিলোওয়াটের সোলার প্যানেল স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর মুফত বিদ্যুৎ যোজনার আওতায়, আমরা প্রতিদিন ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারব। এটি মানুষ ও রাজ্যকে ঠিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলবে। এর মাধ্যমে রাজ্যের অর্থনীতি আরও এগিয়ে যাবে, জিডিপি বাড়বে এবং ব্যক্তিগত আয়ও বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ নিগম ২০০০টি সরকারি ভবনে সৌর বিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে, যার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হলে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, এপর্যন্ত ১৫,০০০ মানুষ সৌর বিদ্যুৎ সিস্টেম স্থাপন করেছেন, যার মাধ্যমে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। সৌর শক্তির কোনো সীমা নেই। বর্তমানে আমরা গ্যাসের উপর নির্ভরশীল, যা ধীরে ধীরে হ্রাস পাচ্ছে। তাই বিদ্যুৎ খাতে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করা অপরিহার্য। আমরা দেখেছি ডুম্বুর থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব, কিন্তু হাইড্রোকাইনেটিক টার্বাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নদী থেকে ১৮৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এই জন্য ১০টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে, যেগুলি হলো চাকমাঘাট, মহারাণী, ডুম্বুর, নতুন বাজার, কলসি, মনু, কুলাই, ফেনী, ধলাই নদী এবং অম্পি, লক্ষীপুর। আগামী মাস থেকে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।”
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, মেয়র দীপক মজুমদার, পুর নিগমের কর্পোরেটরগন এবং অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ।
0 মন্তব্যসমূহ