আগরতলা, ৪ জানুয়ারি: শিল্পচর্চা মানুষের মানসিক বিকাশ ঘটায়, ধৈর্য শেখায়, মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং সৌন্দর্যবোধ জাগ্রত করে। পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অবশ্যই পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপ যুক্ত হওয়া উচিত।
মোহনপুর পৌর পরিষদে আয়োজিত আর্ট সোসাইটি প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে একথা বলেন রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান রাজ্য সরকার শিক্ষার পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতির সার্বিক বিকাশে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে।
তিনি বলেন পরীক্ষায় ভালো নম্বর পেলেই জীবনে সাফল্য নিশ্চিত হয় না। একজন মানুষকে হতে হবে সংবেদনশীল, সৃজনশীল এবং মানবিক। নতুন ভাবনা ও উদ্ভাবনী চিন্তাই ভবিষ্যতের পথ দেখায়। তাই আমি শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানাই পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্প ও সংস্কৃতিকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ করে তোলো।
তিনি আরও বলেন শিক্ষা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপও সমান প্রয়োজনীয়। এগুলির মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বে অসংখ্য চিত্রশিল্পী রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের প্রতিভার মাধ্যমে সম্মানজনক জীবিকা নির্বাহ করছেন।
মন্ত্রী বলেন , পড়াশোনার গণ্ডির বাইরে গিয়েও শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে হবে—কেউ হতে পারে নৃত্যশিল্পী, কেউ ক্রীড়াবিদ, কেউ বা চিত্রশিল্পী।
একটি ছবি হাজার শব্দের সমান শক্তিশালী। রঙের ভাঁজে লুকিয়ে থাকে অনুভূতির গল্প। চোখের মাধ্যমে শিল্প হৃদয়কে স্পর্শ করে। শিল্প হলো মানবচিন্তা ও সৃজনশীলতার এক অনন্য ভাষা। চিত্রাঙ্কন কেবল রঙ ও তুলির খেলা নয়—এটি মনের ভাষা, অনুভূতির প্রকাশ এবং কল্পনার রূপায়ণ। একটি শিশু যখন ছবি আঁকে, তখন সে তার আনন্দ, দুঃখ, স্বপ্ন ও অনুভূতিকে ক্যানভাসে তুলে ধরে। যা মুখে বলা যায় না, শিল্প তা নিঃশব্দে প্রকাশ করে।”
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান দ্রুতগতির ও প্রযুক্তিনির্ভর যুগে শিল্পচর্চার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। শিল্প মানুষের মানসিক বিকাশ ঘটায়, ধৈর্য শেখায়, মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং সৌন্দর্যবোধ জাগ্রত করে। চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে শিশুদের সৃজনশীল চিন্তাশক্তি বিকশিত হয়, যা ভবিষ্যতে যে কোনো পেশাগত ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনে সহায়ক হয়।
তিনি জানান, রাজ্য সরকার চায় শিক্ষার্থীরা কেবল পরীক্ষায় ভালো ফল করুক তা নয়, বরং তারা যেন সংবেদনশীল, সৃজনশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।
তিনি বলেন আমি সকল শিক্ষার্থীদের বলতে চাই—পড়াশোনার পাশাপাশি শিল্পকে জীবনের অংশ করে নাও। তোমাদের স্বপ্নকে নানা রঙে আঁকো। তোমাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে এক সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সৃজনশীল সমাজ। আজকের দিনে শিল্পীরা আর্ট গ্যালারি, প্রদর্শনী, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিংবা সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে তাঁদের শিল্পকর্ম বিক্রি করে স্বাবলম্বী হতে পারেন।”
0 মন্তব্যসমূহ