Advertisement

Responsive Advertisement

কাজের সাফল্যের প্রেক্ষিতে তুলাশিখর ব্লকে নতুন তিন গ্রামকে বায়োভিলেজ ঘোষণা



আগরতলা, ১০ জানুয়ারি : খোয়াই জেলার তুলাসিখর ব্লকের অন্তর্গত পূর্ব বাদলাবাড়ি, পূর্ব বাছাইবাড়ী এবং রাজনগর গ্রামগুলোকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে বায়োভিলেজ 2.0 প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বায়োটেকনোলজি দপ্তরের বায়োবিলেজ ২.০ প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এই তিন গ্রাম আজ শিরোনামে। প্রত্যেকটি গ্রামই জনজাতি অধ্যুষিত । কথা হচ্ছিলো Biotechnology দপ্তরের joint Director অঞ্জন সেনগুপ্ত সাথে, যার মাথায় প্রথম এই অভিনব চিন্তা এসেছিল এবং যার সফল বাস্তবায়ন এবং স্বীকৃতি আজ জাতীয় স্তরে l উনি বলছিলেন এই প্রকল্প লেখার সময়ে কখনো ভাবেন নি যে এটি আজ এক মহিরুহ এর আকার নেবে l 2018 সালে প্রথম Biovillage 2.0 এর আর্থিক সহায়তা করেছিলো ONGC Tripura আর তারপর আরো কয়েকটির জন্য সহায়তা এবং এখন এটি রাজ্য সরকারের আর্থিক সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে l আবার একসাথে তিনটি জন জাতি Biovillage 2.0 উদ্বোধনের মাধ্যমে নতুন নজির তৈরী হলো Tulasikhar এ l সেনগুপ্ত জানান বর্তমানে Tripura তে ৩১ টি Biovillage 2.0 কাজ বাস্তবায়িত হয়েছে l কথা হচ্ছিলো পূর্ব বদলাবাড়ি গ্রামের এক জনজাতি সুবিধাভোগীর সাথে নাম তার রণবীর দেববর্মা। উনি এই তিন গ্রামের মোট ২১০ জন সুবিধাভোগীর একজন। যিনি বায়োভিলেজ ২.০ প্রকল্পে নিজের পছন্দ অনুসারে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী LED Bulb, VLDC fan, street light, থেকে শুরু করে শূকর ছানা, শূকর প্রতি পালনের জন্য প্রয়োজনীয় রেশন সামগ্রী, সৌরশক্তি চালিত পাম, হাঁসের ছানা ইত্যাদি বায়োটেকনোলজি দপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত বায়োভিলেজ ২.০ প্রকল্প থেকে পাবেন। এরমধ্যে প্রথম চারটি উপাদান ইতিমধ্যে ঘরে তোলা হয়েছে। উনার কথাই তরজমা করলে বুঝা যায় যে এই প্রকল্পটি উনার জন্য "এক আকাশ আনন্দ নিয়ে এসেছে" । ঠিক একই রকমভাবে তিনটি গ্রামের নির্বাচিত বাকি ২১০ জন সুবিধাভোগী ও পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী Fan, LED bulb থেকে শুরু করে কেউবা ছাগলছানা সাথে হাসের ছানা, প্রাণী খাদ্য , মাশরুম, মাছের পোনা আবার কেউবা বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী Fan LED bulb এর সাথে বায়োগ্যাস ,সৌর চালিত চুল্লি, মৌমাছি পালনের উপাদান, মুরগির ছানা ইত্যাদি পাবেন।
তুলা শিখর ব্লকের অন্তর্গত শীতের স্মৃতি কমিউনিটি হলে গত ১০ জানুয়ারি ২০২৬ ইং তারিখে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও পরিবেশ দপ্তরের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার হাত ধরে পথচলা শুরু হলো আরো তিনটি বায়োভিলেজ ২.০ প্রকল্প। রাজ্যের বায়োটেকনোলজি দপ্তরের এই অভিনব উদ্যোগ ইতিমধ্যে দেশের নীতি আয়োগ দ্বারা সমাদ্রিত।
আরেকজন আধিকারিক বিমল দাসের সঙ্গে কথা হচ্ছিল, যিনি মাঠে ময়দানে এই প্রকল্প রূপায়নে মুখ্য ভূমিকায় থাকেন, উনার কথাই বায়োভিলেজ প্রকল্প শুধুমাত্র আর্থিক সমৃদ্ধি করে না, বরং এই প্রকল্প গ্রামের মানুষকে একসাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করার শিক্ষা দেয়।
 বায়োটেকনোলজি দপ্তরের এই উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তুলাশিকর আর ডি ব্লক, প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তর, মৎস্য দপ্তর, TREDA, EESL, ও কৃষি দপ্তর। এই প্রকল্পে সুবিধাভোগীরা নিজের পছন্দ অনুযায়ী এবং প্রাকৃতিক সম্পদের আধিক্য অনুসারে বায়োটেকনোলজি দপ্তর কর্তৃক নির্বাচিত ১৫ থেকে ১৬ টি অর্থকরী উপাদানের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়টি নির্বাচন করতে পারে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী দপ্তরের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই এবং এই পর্যন্ত দপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত ২৬ টি বায়ভিলেজ প্রকল্পের সাফল্যের কথা তুলে ধরে। 
অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খোয়াই জেলার অতিরিক্ত জেলা শাসক, খোয়াই জোনের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, বায়োটেকনোলজি দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা শ্রী অঞ্জন সেনগুপ্ত, ব্লকের ভিডিওসহ অন্যান্যরা।
আজ অনুষ্ঠানে ২১০ জন সুবিধাভোগীর হাতে ৮৪০ টি LED bulb, ৩১৮ টি street light, Rechargeable bulb, fan এবং ২২ টি ব্যাটারি চালিত ২০ লিটার স্পেয়ার সহ ৩৩০ লিটার জৈব তরল সার এবং প্রত্যেক বেনিফিশিয়ারিদের এককালীন অনুদান হিসেবে তিন (৩০০০) হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়।
এই প্রকল্পে সুবিধাভোগীদের মধ্যে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ করে দিবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সাপেক্ষে এই পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ সঠিকভাবে গ্রামীণ অর্থ সামাজিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ