Advertisement

Responsive Advertisement

রাজ্যের সমস্ত ক্ষেত্রে সর্বাঙ্গীণ বিকাশের চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার: মুখ্যমন্ত্রী


আগরতলা, ১০ মার্চ: রাজ্যের বর্তমান সরকার আগামী প্রজন্মকে সুস্থ মানসিকতা উপহার দিতে চায়। আমরা চায় তাদের মধ্যে একটা সুন্দর মানসিকতা গড়ে উঠুক। খেলাধুলা থেকে শুরু করে কৃষি, পরিবহন সহ সমস্ত ক্ষেত্রে সর্বাঙ্গীণ বিকাশের চেষ্টা করছে রাজ্যের বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঐকান্তিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দ্রুত বিকাশের দিশায় এগিয়ে চলছে ত্রিপুরা। খুব সহসাই আগরতলা এমবিবি বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা চালু করা সম্ভব হবে। এজন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে রাজ্য সরকার। রবিবার আগরতলার এমবিবি বিমানবন্দরে আধুনিক ত্রিপুরার রূপকার প্রয়াত মহারাজা বীরবিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের ব্রোঞ্জ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। 
                    অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আগে এই এয়ারপোর্ট সিঙ্গারবিল এয়ারপোর্ট নামে পরিচিত ছিল। তখন খুবই ছোট পরিসরে ছিল এই এয়ারপোর্ট। মানিক্য মহারাজারা ত্রিপুরার উন্নয়নে খুবই ভালো কাজ করে গিয়েছেন। সেই ভালো কাজের স্বীকৃতি আগে দেওয়া হয় নি তাদের। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি দায়িত্ব গ্রহণের পর এবং ২০১৮ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকার রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রকৃত অর্থে ত্রিপুরার মহারাজাদের সম্মান প্রদর্শন করা হয়। সিঙ্গারবিল এয়ারপোর্টের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সকলের চোখের সামনেই এয়ারপোর্টের অত্যাধুনিকীকরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই এয়ারপোর্টকে মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের নামে উৎসর্গ করেন। প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই এই অত্যাধুনিক বিমানবন্দরের উদঘাটন হয়। তখনই বিভিন্ন মহল থেকে দাবি উঠেছিল যে পুরনো বিমানবন্দরে মহারাজার মর্মর মূর্তি ছিল। তাই নতুন জায়গায় কেন হবে না? এরপর দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় অসামরিক পরিবহন মন্ত্রকের সাথে কথা বলি। এয়ারপোর্ট ডিরেক্টরের সঙ্গেও কথা বলি। শেষপর্যন্ত পরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ক্রমে মহারাজার মর্মর মূর্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। সে মোতাবেক ব্রোঞ্জ দিয়ে মহারাজার মর্মর মূর্তি স্থাপন করা হয়। মূর্তিটি খুবই সুন্দর হওয়ায় শিল্পীর বেশ প্রশংসা করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। 
                        অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরাতে মেধার কোন অভাব নেই। এই যেমন মহারাজার মর্মর মূর্তি খুবই ভালোভাবে বানানো হয়েছে। এজন্য মনের স্থিতধি অনেকটাই নির্ভর করে। ৭০ এর দশকে আমরা কেউ ভাবতে পারি নি ত্রিপুরায় যে এমন একটি সুন্দর এয়ারপোর্ট গড়ে উঠবে। এই এয়ারপোর্ট এখন উত্তর পূর্বাঞ্চলের মধ্যে অন্যতম একটা সুন্দর এয়ারপোর্ট। হয়তো বা অন্য রাজ্যের এয়ারপোর্টের চাইতেও অধিক সুন্দর হয়েছে এটি। আমাদের গর্ব হয় যখন মানুষ বাইরে থেকে এসে বলে যে আপনাদের এয়ারপোর্ট এতো সুন্দর। তখন গর্বে বুক ভরে যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঐকান্তিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এটা সম্ভব হয়েছে। ত্রিপুরার বিকাশে কি না করছেন তিনি। উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির উন্নয়নে অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি চালু করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আজ যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন হচ্ছে। এখন আগরতলা বিমানবন্দর থেকে দৈনিক ৩০/৩২টি বিমান উঠানামা করছে। এতে প্রায় চার হাজার যাত্রী আসা যাওয়া করছেন। সেটা কোনদিন ভাবা যায় নি। আগে বাইরের মানুষকে ত্রিপুরা কোথায় বলতে হতো। আর এখন ভারতের মানচিত্রে ত্রিপুরা উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো জ্বলছে। এসব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বের জন্য। বিশ্বের মধ্যে এখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শ্রেষ্ঠ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। 
               মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক বিমান পরিষেবা চালু করার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সদর্থক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য বার বার কথা বলা হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে। খুব শীঘ্রই যাতে আন্তর্জাতিক পরিষেবা শুরু করা যায় ইমিগ্রেশন থেকে শুরু করে, পুলিশী ব্যবস্থা সহ যা যা দরকার সবই করা হচ্ছে। এসকল বিষয় নিয়ে দিল্লিতে একাধিকবার আমি এবং পরিবহন মন্ত্রী কথা বলেছি। শুরুতেই চিটাগাং দিয়ে আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য ক্যাবিনেটে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় গ্যাপ ফান্ডিংয়েরও ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। ধারণা করা হচ্ছে খুব সহসাই আন্তর্জাতিক পরিষেবা শুরু করা যাবে। প্রধানমন্ত্রীর কারণে বিমান যোগাযোগ, সড়ক যোগাযোগ, রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে ত্রিপুরা। আমরা কিভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাবো সেই পথও দেখাচ্ছেন তিনি। 
                         অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবহন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব পি কে চক্রবর্তী, পরিবহন দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা, এমবিবি বিমানবন্দরের অধিকর্তা কে সি মিনা, পরিবহন কমিশনার উত্তম মন্ডল সহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ আধিকারিকগণ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ