আগরতলা, ১৭ মার্চ : ভারতবর্ষকে ভোজ্যতেলে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলার লক্ষ্যে মিশন ফর এডিবল অয়েল প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের রাজ্যেও তেল উৎপাদনকারী দানাশস্য চাষ করা হচ্ছে। এরই অঙ্গ হিসেবে ধলাই জেলার দুর্গা চৌমোহনী ব্লক কমিউনিটি হলে ওয়েলপাম চাষের উপর একদিনের এক প্রশিক্ষণ শিবির অনুষ্ঠিত হয়। উপস্থিত ছিলেন অল ত্রিপুরা ফার্মার্স ক্লাবের রাজ্য সভাপতি প্রদীপ বরণ রায়, হর্টিকালচার দপ্তরের জয়েন্ট ডাইরেক্টার ডঃ শান্তনু দেববর্মা ধলাইজেলা উদ্যান দপ্তরের সহ-অধিকর্তা পরিমল দেববর্মা দুর্গা চৌমোহনী এগ্রিকালচার সুপারেনটেনডেন্ট বলেন্দ্র দেববর্মা। সভায় সভাপতিত্ব করেন দুর্গা চৌমোহনী বিএসসি চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ দেববর্মা। প্রদীপ প্রজ্বলন করে কর্মশালার শুভারম্ভ করেন অল ত্রিপুরা ফার্মাস ক্লাবের রাজ্য সভাপতি বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রদীপ বরন রায়। স্বাগত ভাষণ রাখেন দুর্গা চৌমোহনী এগ্রিকালচার সুপারেনটেনডেন্ট বলেন্দ্র দেববর্মা। প্রধান অতিথির ভাষণে প্রদীপ বরণ রায় বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ছিলেন বলেই ত্রিপুরার জুম চাষী ভাই বোন ওয়েলপাম চাষ করার সুযোগ পেয়েছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বনবাসী জনজাতি ভাই-বোনদের অত্যন্ত সম্মানের চোখে দেখেন এবং তিনি এটা মনে করেন যে জনজাতি ভাই-বোনদের মধ্যে এই ক্ষমতা আছে যে ভারতের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি উনাদের মাধ্যমে হতে পারে। প্রতিবছর ভারতের প্রায় লক্ষ কোটি টাকার ভোজ্য তেল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। উত্তর পূর্বাঞ্চলের সবগুলো রাজ্যকে ওয়েল পাম চাষ করার প্রজেক্ট দিয়েছেন তাই আমরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিকট কৃতজ্ঞ। যারা জুম চাষ করেন উনারা ওয়েলপাম চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বন হবেন এটা নিশ্চিত এবং পামওয়েল খুব লাভজনক একটি চাষ। ত্রিপুরার মাননীয় কৃষি ও কৃষক কল্যান মন্ত্রী রতন লাল নাথ নিজে মালয়েশিয়া গিয়ে ওয়েল পাম চাষ দেখে এসেছেন এবং এই চাষ ত্রিপুরায় হবে এবং ত্রিপুরার কৃষকগণ অত্যন্ত লাভবান হবেন এই মন্তব্য তিনি করেছেন। দপ্তরের কর্মকর্তাগণ পামওয়েল চাষের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা করেন এবং উপস্থিত জুম চাষি ভাই-বোনগণ অত্যন্ত উৎসাহের সাথে পামওয়েল চাষ ব্যাপারে ওয়াকিবহাল হন এবং উনারা এই চাষ করবেন বলে জানান। সভাতে প্রায় তিনশত উৎসাহী পামওয়েল চাষী উপস্থিত ছিলেন।