আগরতলা, ২ জানুয়ারি: শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের মন্ত্রী সান্তনা চাকমা আজ প্রজ্ঞাভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ত্রিপুরা আরএএমপি পার্শিয়াল রিএমবার্সমেন্ট অব লোন ইনসেনটিভস্কিম ২০২৫ এবং ত্রিপুরা আরএএমপি ট্রান্সপোর্ট ইনসেনটিভ স্কিম ২০২৫ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। দুটি প্রকল্পের বিষয়ে আলোচনা করতে গিয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা আরএএমপি ট্রান্সপোর্ট ইনসেনটিভ স্কিমে ত্রিপুরার বাইরে পরিবহণের ক্ষেত্রে পরিবহণ ব্যয়ের উপর ৩০ শতাংশ ভর্তুকী দেওয়া হবে। ইউনিট প্রতি সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা ভর্তুকী দেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় শিল্পসামগ্রী উৎপাদন ও রপ্তানীকারকদের পরিবহণ ব্যয় কমবে। বহিরাজ্যে এসব উৎপাদিত সামগ্রী রপ্তানীকারকগণ সহজেই বিক্রি করতে পারবেন।
দ্বিতীয় প্রকল্পটির বিষয়ে শিল্পমন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা আরএএমপি পার্শিয়াল রিএমবার্সমেন্ট অব লোন ইনসেনটিভ স্কিমে কোন শিল্প উদ্যোগের জন্য ঋণ গ্রহণকারীকে ঋণের পরিমাণের উপর ৫ শতাংশ এককালীন ফেরত দেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে। এই প্রকল্পে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হবে। তিনি বলেন, এই দুটি প্রকল্পের লক্ষ্য হল শিল্পদ্যোগীদের ঋণ ব্যবস্থার প্রতি উৎসাহিত করা, তাদের আর্থিক চাপ কমানো এবং শিল্পদ্যোগগুলির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা। এই উদ্যোগের ফলে রাজ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পদ্যোগীগণ উপকৃত হবেন। বিশেষ করে হস্ততাঁত ও হস্তকারু শিল্প, রাবার, চা প্রক্রিয়াকরণ, ধূপকাঠি তৈরী, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রভৃতি শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগণ এবং স্বসহায়ক দলের মহিলাগণ বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। শিল্পমন্ত্রী বলেন, দুটি প্রকল্পই রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলা শিল্প কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এই দুটি প্রকল্পের সুযোগ গ্রহণ করার জন্য তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান। শিল্পমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন এই দুটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের অর্থনৈতিক বুনিয়াদ আরও সুদৃঢ় হবে।
শিল্প দপ্তরের এই দুটি নতুন প্রকল্প উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রকল্পগুলির বিষয়ে আলোচনা করেন ত্রিপুরা শিল্প উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান নবাদল বণিক, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিতো। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা ড. দীপক কুমার। ধন্যবাদসূচক বক্তব্য রাখেন দপ্তরের অতিরিক্ত অধিকর্তা সুভাষ চন্দ্র দাস। অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পদ্যোগীগণ অংশগ্রহণ করেন।
0 মন্তব্যসমূহ