Advertisement

Responsive Advertisement

১২৫ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে নতুন ভিবি জি রাম জি আইন: রতন লাল নাথ



আগরতলা, ৮ জানুয়ারি: গ্রামীণ উন্নয়নকে আরও শক্তিশালী করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার মনরেগা সংশোধন করে “ভিবি জি রাম জি আইন ২০২৫” নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে।
আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ কথা জানান কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতন লাল নাথ। মন্ত্রী এই যুগান্তকারী উদ্যোগের জন্য কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, নতুন এই আইনের আওতায় গ্রামীণ শ্রমিকদের জন্য ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে, যেখানে আগে সীমা ছিল ১০০ দিন। এই নতুন আইনের জন্য আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ করা হবে। কংগ্রেস সরকারের আমলে (২০০৫–২০১৪) মনরেগা -র জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ২ লক্ষ ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পর ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই বরাদ্দ বেড়ে হয়েছে ৭ লক্ষ ৮০ হাজার কোটি টাকা। বর্তমান সরকার গ্রামীণ উন্নয়নে ইতিবাচক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী জানান, ত্রিপুরায় ২০১৮ সালের পর গত সাত বছরে মনরেগা -র অধীনে বরাদ্দ হয়েছে ৭,৮০১ কোটি টাকা, যেখানে ২০১৮ সালের আগের সাত বছরে বরাদ্দ ছিল ৬,৪৯০ কোটি টাকা।
তিনি বলেন গত সাত বছরে মনরেগা প্রকল্পের মাধ্যমে ৮ লক্ষ ১০ হাজার সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে তার আগের সাত বছরে সৃষ্টি হয়েছিল ৬ লক্ষ ৬৭ হাজার ৩৩২টি সম্পদ। একই সময়ে গ্রামীণ পরিবারগুলোর সরাসরি মজুরি বাবদ প্রদান করা হয়েছে ৫,৩৩২ কোটি টাকা, যেখানে ২০১৮ সালের আগের সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৪,২৪০ কোটি টাকা। বর্তমানে ত্রিপুরায় এই প্রকল্পের আওতায় ৬.৫৬ লক্ষ জব কার্ড এবং ১০.২০ লক্ষ নিবন্ধিত শ্রমিক রয়েছেন,।
তিনি আরও জানান, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর জন্য কেন্দ্র সরকার ৯০ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ করে এবং রাজ্যগুলোর অংশ মাত্র ১০ শতাংশ। নতুন আইনে জল সংরক্ষণ, জল নিরাপত্তা, সম্পদ সৃষ্টি, জীবিকা উন্নয়ন, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যয় যা আগে ৬ শতাংশে সীমাবদ্ধ ছিল, তা বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে যাতে প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কার্যকর হয়।
মন্ত্রী বলেন, আগে শ্রমিকরা প্রায়ই মজুরি পেতে বিলম্বের সম্মুখীন হতেন। কিন্তু সংশোধিত ব্যবস্থায় এখন শ্রমিকদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি মজুরি স্থানান্তর করা হচ্ছে, ফলে স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং সময়মতো অর্থ প্রদান নিশ্চিত হয়েছে। নতুন আইনটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত, যার লক্ষ্য দুর্নীতি ও আর্থিক লিকেজ সম্পূর্ণভাবে রোধ করা।
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বামফ্রন্ট সরকারের আমলে মনরেগা প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছিল। বিশালগড় ব্লকে ১৭ কোটি টাকার দুর্নীতি কেগ রিপোর্টে প্রকাশ পেয়েছে। নিরীক্ষা ও তদন্তের পর বিশালগড় থানায় মামলা দায়ের করা হয়, ৪০টি মামলায় ১২ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি বর্তমানে হাইকোর্টে বিচারাধীন।
মন্ত্রী বলেন, মনরেগা বাস্তবায়নে ত্রিপুরা ধারাবাহিকভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। জাতীয় স্তরে ত্রিপুরার অবস্থান ছিল ২০২০–২১ সালে ২য়,
২০২১–২২ সালে ৩য়, ২০২২–২৩ সালে ৪র্থ এবং ২০২৩–২৪ সালেও ৪র্থ স্থান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ