গৌহাটি, ৬ জানুয়ারি: আসামের ডিব্রুগড় জেলার টিংখংয়ের শালমারি দিঘালিয়া এলাকায় অয়েল ইন্ডিয়ার (Oil India Limited/ OIL) অপরিশোধিত তেলের পাইপলাইন আবারও লিক হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, যা গত ১২ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয়বার। রাত Approx 10টার দিকে প্রথম বিস্ফোরণের পর প্রায় একই স্থানে সকাল ১০টার দিকে আবারই পাইপলাইন ভেঙে তেল বের হওয়ায় এলাকায় পুনরায় আতঙ্ক ছড়ায়।
প্রাপ্ত সব খবর অনুযায়ী, প্রথমবারের মতো লিক হওয়া তেল দ্রুতই কৃষিজমি এবং মাছের পুকুরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলেই স্থানীয় চাষিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েন এবং মাছচাষীরা প্রচুর প্রজাতির মাছ হারিয়ে ফেলেছেন। তেলের তীব্র দুর্গন্ধ পুরো অঞ্চল জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং মানুষের স্বাস্থ্যে ও পশুপাখির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় জনগণ অভিযোগ করেছেন যে, কোম্পানিটি শুধুমাত্র অস্থায়ী মেরামত করছে এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তারা দাবি করছেন যে পাইপলাইনটি পুরনো ও দুর্দশাগ্রস্ত হওয়ার কারণে বারবার ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা বেড়েছে, এবং এই অবস্থা তাদের জীবিকা ও কমিউনিটিকে হুমকির মুখে ফেলছে। তারা ক্ষতিপূরণ ও স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা চেয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন।
এমন পুনরাবৃত্ত অনিয়ন্ত্রিত তেল লিক ঘটনা আসামের মতো তেলসম্পদের সমৃদ্ধ একটি প্রদেশে পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে। তেলের আগুন ধরার, গ্যাস মিশ্রিত হওয়া, বা দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত দূষণ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষুদ্র নয় — বিশেষত যখন এই অঞ্চলটি নদী, পোক্ত বনভূমি এবং জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধুমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত অংশের অস্থায়ী মেরামত নয় বরং পুরোপুরি নতুন পাইপলাইন স্থাপন বা ভূগর্ভস্থ করে নেয়া উচিত যাতে ভবিষ্যতে একই রকম ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। এলাকাবাসী ও পরিবেশ কর্মীরা এ নিয়ে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
0 মন্তব্যসমূহ