Advertisement

Responsive Advertisement

নিরাপদ মাতৃত্বে ত্রিপুরার নতুন উদ্যোগের সূচনা হল সম্পূর্ণ ত্রিপুরা মিশন


আগরতলা, ৬ নভেম্বর : রাজ্যে মায়ের মৃত্যুর হার কমিয়ে আনা ও অন্যান্য গর্ভকালীন জটিলতা প্রতিরোধের লক্ষ্যে সূচনা হল ‘সম্পূর্ণ ত্রিপুরা মিশন’ (Sampoorna Tripura Mission)- যার মাধ্যমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও দক্ষ সহায়তার মাধ্যমে মায়েদের নিরাপদ গর্ভাবস্থা ও প্রসব নিশ্চিত করা যায়।
 ত্রিপুরা সরকার ও ফেডারেশন অব অবস্টেট্রিক অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটিজ অব ইন্ডিয়া (FOGSI)'র উদ্যোগে এবং জাইপাইগো (JHPIEGO) এবং ন্যাশনাল হেলথ মিশন, আগরতলা অবস্টেট্রিক অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব ইন্ডিয়ার সহযোগিতায় ৫ নভেম্বর ২০২৫ প্রজ্ঞা ভবনে দুদিনের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। 
৬ নভেম্বর, কর্মশালার দ্বিতীয় তথা সমাপ্তি দিনে উপস্থিত ছিলেন FOGSI'র সভাপতি ডাঃ সুনিতা টেনডুলওয়াদকার, স্বাস্থ্য অধিকারের অধিকর্তা (ইনচার্জ) ডাঃ সৌভিক দেববর্মা, স্টেট্ হেলথ এন্ড ফেমিলি ওয়েলফেয়ারের মেম্বার সেক্রেটারি ডাঃ নুপুর দেববর্মা, সহ অন্যান্যরা।     
ত্রিপুরা রাজ্যে মায়ের মৃত্যুর হার এখনও উদ্বেগের বিষয়। মায়েদের মৃত্যুর পেছনে বেশ কিছু চিকিৎসাগত ও সামাজিক কারণ কাজ করে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় কারণ হলো গর্ভাবস্থাজনিত উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যা, রক্তাল্পতা, সংক্রমণ (সেপসিস) এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ । এই চারটি কারণই মায়ের মৃত্যুর একটি বড় অংশের জন্য দায়ী। এছাড়াও, কিছু সামাজিক ও আচরণগত কারণও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। যেমন — অল্প বয়সে বিয়ে ও কিশোরী মায়েদের গর্ভধারণ, নারীদের মধ্যে ব্যাপক রক্তাল্পতা, এবং গর্ভকালীন সময়ে আয়রন ট্যাবলেট গ্রহণে অনীহা। এসব কারণে গর্ভবতী মায়েদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং জটিলতা বেড়ে যায়। 
ত্রিপুরায় আরও কিছু নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ দেখা দিচ্ছে। নারীদের মধ্যে তামাক ও মাদকদ্রব্যের ব্যবহার, অসচেতনভাবে ওষুধের মাধ্যমে গর্ভপাতের চেষ্টা, এবং নিরাপদ ও পূর্ণাঙ্গ গর্ভপাত পরিষেবার অভাব — এই সব বিষয় মায়েদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে।
মায়ের মৃত্যু কমাতে হলে নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টির উন্নয়ন এবং প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব। আর এই দুদিনের কর্মশালায় চিকিৎসক এবং নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ দিয়েছেন FOGSI'র ন্যাশনাল প্রোজেক্ট কোর্ডিনেটর ডাঃ প্রীতি কুমার, FOGSI'র স্টেট্ প্রোজেক্ট কোর্ডিনেটর তথা প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ জে এল বৈদ্য, আগরতলা মেডিক্যাল কলেজের প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের হেড অব দ্য ডিপার্টমেন্ট ডাঃ জয়েন্ত রায় , আগরতলা অবস্টেট্রিক অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটির সেক্রেটারি এবং প্রেসিডেন্ট ডাঃ অরিন্দম মল্লিক, ডাঃ বাপ্পাদিত্ত সোম সহ অন্যান্যরা। এই কর্মশালায় গর্ভকালীন জটিলতা প্রতিরোধ, গর্ভধারণের পূর্ব প্রস্তুতি বা গর্ভের আগে স্বাস্থ্য পরিচর্যা, প্রসবের পর রক্তক্ষরণ বন্ধ করা, স্বাস্থ্যকর্মীরা যাতে গর্ভবতী মায়েদের যথাযথ পর্যবেক্ষণ, সঠিক পরামর্শ এবং জরুরি অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারে তার উপর জর দেওয়া হয়।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ