আগরতলা, ২৬ নভেম্বর: সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ভারতের একতা ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। ভারতের প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তুলতে এবং জাতীয় ঐক্যকে শক্তিশালী করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।
আজ গুজরাটের শাস্ত্রী ময়দানে আয়োজিত সর্দার @১৫০ ইউনিটি মার্চ পদযাত্রার সূচনা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা। এই অনুষ্ঠানে অন্যতম অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্রভাই প্যাটেল।
এরআগে এদিন সকালে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের বাড়িতে যান এবং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্রভাই প্যাটেলের সাথে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ এখানে উপস্থিত বিশিষ্ট জনদের আমি আমার ব্যক্তিগত ও ত্রিপুরাবাসীর পক্ষ থেকে হার্দিক শুভকামনা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি। এই কার্যক্রমে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত মনে করছি। আজ আমরা শুধু পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করছি না, সাথে একতা, সাহস রাষ্ট্র নির্মাণের মহৎ আদর্শকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি। ভারতের একতার রূপকার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে প্রত্যেক বছর ৩১ অক্টোবর দিনটি রাষ্ট্রীয় একতা দিবস হিসেবে উদযাপন করা হয়। রাষ্ট্রীয় একতা দিবস আমাদের দেশের সংহতি ও অখণ্ডতা রক্ষায় একতার মাহাত্ম্যকে মনে করিয়ে দেয়। এবার সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের লৌহ পুরুষ সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলকে সম্মান জানিয়ে মাই ভারত, যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রকের সর্দার@১৫০ ইউনিটি মার্চ উদযাপনের অংশ হিসেবে এই পদযাত্রার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ভারতের ঐক্যের স্থপতি সর্দার প্যাটেলের অবদানকে স্মরণ করা এবং দেশের যুবদের মধ্যে ঐক্য, দেশপ্রেম এবং দায়িত্ববোধের চেতনা জাগিয়ে তোলা। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে এক ভারত, আত্মনির্ভর ভারত।
আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন, ভারতের লৌহমানব ভারতরত্ন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের ১৫০তম জন্মবার্ষিকীকে স্মরণীয় করার জন্য আমাদের রাজ্য ত্রিপুরায়ও বিভিন্ন কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়েছে। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ভারতের প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে স্বাধীনতার পর দেশের ঐক্য প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। সর্দার প্যাটেল একটি অখন্ড ও শক্তিশালী ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে ভারতের শক্তি তার বৈচিত্র্যের মধ্যে নিহিত। আমরা সকলেই জানি যে ভারতের স্বাধীনতার সময়, বিশেষ করে ১৯৪৭ এবং ১৯৪৯ সালের মধ্যে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল প্রায় ৫৬০টি রাজন্য শাসিত রাজ্যকে ভারতে একীভূত করেছিলেন। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল জাতির ঐক্য ও অখণ্ডতার একজন চ্যাম্পিয়ন। তিনি ভারতের একতা ও অখণ্ডতা রক্ষার জন্য তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন এবং দেশের প্রশাসনিক কাঠামো তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৪ সাল থেকে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের সম্মানে, আমাদের যশস্বী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সারা দেশে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস উদযাপন শুরু করছেন। সর্দার প্যাটেলের সম্মানে, ভারত সরকার দেশকে শক্তিশালী, একটি সমৃদ্ধ ভারত গড়ার এবং সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হতে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এই বছর গুজরাটে সর্দার@১৫০ ইউনিটি মার্চ উদযাপন করছে৷ সারাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে সর্দার @১৫০ ইউনিটি মার্চের আয়োজন করা হচ্ছে। ৩১ অক্টোবর থেকে ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত জেলা পর্যায়ে পদযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে এবং ত্রিপুরায়ও এই কার্যক্রম অত্যন্ত উৎসাহের সাথে পালিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী নিমুবেন বামবানিয়া, কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রমন্ত্রী অনুপ্রিয়া প্যাটেল, বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসাল, বিজেপির গুজরাট প্রদেশের সভাপতি জগদীশ বিশ্বকর্মা, গুজরাটের মন্ত্রী জিতু ভাগানী সহ অন্যান্য মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ।
0 মন্তব্যসমূহ