আগরতলা, ২৮ নভেম্বর: রাজ্যের বিদ্যুৎ, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ আজ জানান যে বর্তমান রাজ্য সরকার ত্রিপুরাকে দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।
জম্পুই পাহাড়ের ভাংমুন মাঠে আয়োজিত ‘ইউনিটি প্রমোফেস্ট ২০২৫’-এর চতুর্থ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পর্যটনমন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী ও শিল্প–বাণিজ্য মন্ত্রী সান্তনা চাকমা। মন্ত্রী এদিন জম্পুই পাহাড়ের নবসজ্জিত ইডেন ট্যুরিস্ট লজেরও উদ্বোধন করেন। তিনি জানান, ত্রিপুরার পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশ–বিদেশে তুলে ধরতেই প্রথম প্রমোফেস্টের আয়োজন করা হয় ২০২৪ সালে।
মন্ত্রী বলেন গত বছরের মতো এ বছরও ‘ইউনিটি প্রমোফেস্ট ২০২৫’ আয়োজন করা হয়েছে। নারিকেলকুঞ্জ, বিলোনিয়া , উদয়পুর, জম্পুই পাহাড় এবং নীরমহল সহ ছয়টি প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে বৃহত্তর আকারে এই উৎসব শুরু হয়েছে। শেষ পর্ব অনুষ্ঠিত হবে আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়ামে একটি বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। দেশের বহু বিখ্যাত শিল্পী ইতিমধ্যেই অংশ নিয়েছেন এবং আরও অংশ নেবেন।
মন্ত্রী জানান, প্রমোফেস্ট মূলত একটি পর্যটন উদ্যোগ, যার লক্ষ্য ত্রিপুরার পর্যটন শিল্পকে বিকশিত করা।
মন্ত্রী আরো বলেন আজকের দিনে পর্যটন আর শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অগ্রগতির অন্যতম চালিকা শক্তি। পর্যটন দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রত্যক্ষ–পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানে বিশেষ ভূমিকা রাখে। প্রমোফেস্টের প্রধান উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের উন্নতিশীল পর্যটনকে দেশ–বিদেশের মানুষের কাছে তুলে ধরা, মানুষে–মানুষে ও জাতিতে–জাতিতে সৌহার্দ্যের বন্ধন দৃঢ় করা, হোমস্টে নিবন্ধনের মাধ্যমে মানুষকে স্বনির্ভর ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করে তোলা এবং সাংস্কৃতিক চেতনা ও অর্থনৈতিক ভিত্তি সমৃদ্ধ করা।
তিনি জানান , পর্যটন দপ্তরের ইতিবাচক উদ্যোগের ফলে দেশি–বিদেশি পর্যটকের আগমন, রাজস্ব সংগ্রহ এবং কর্মসংস্থান সবকিছুই বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন ২০১৬–১৭ সালে রাজ্যে মোট ৪,১৯,৮০৭ জন পর্যটক এসেছিলেন—যার মধ্যে ৩,৮০,৫৭৮ জন দেশি এবং ৩৯,২২৯ জন বিদেশি পর্যটক। ২০২৪–২৫ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,০৭,১৭৩—যার মধ্যে ৬,২৭,৭০৫ জন দেশি এবং ৭৯,৪৬৮ জন বিদেশি পর্যটক।
মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সংস্কারকাজ উদ্যোগের মাধ্যমে এগিয়ে চলছে। একান্ন পীঠের অন্যতম ত্রিপুরেশ্বরী মন্দির, নীরমহল, ডুম্বুর , ছবিমুরাসহ অন্যান্য কেন্দ্রের সৌন্দর্যায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ২০১৮ সালের পর কাঞ্চনপুর মহকুমার অধীনে ৫০ কিলোমিটার জাতীয় সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে জাম্পুইও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি ৪২.১২ কিলোমিটার রাজ্য সড়ক ও ৫৭.৫২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে এবং জাম্পুই হিলে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি আরও জানান, জম্পুই হিল আর.ডি. ব্লকের মোট পরিবার সংখ্যা ৩,৮৯২। এর মধ্যে ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২,১৫১ জন উপভোক্তাকে পিএমএওয়াই–জি এবং পিএম–জনমন প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। একই ব্লকে ২,১৬১টি পরিবারে গৃহস্থালি পানিও জল লাইন দেওয়া হয়েছে এবং ১,৩৮৬টি পিএইচএইচ পরিবারকে বিনামূল্যে রেশনে চাল প্রদান করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক ফিলিপ কুমার রিয়াং, সভাধিপতি অপর্ণা নাথ, পর্যটন সচিব ইউ.কে. চাকমা এবং অন্যান্য অতিথিবৃন্দ।
0 মন্তব্যসমূহ